গ্যাস সরবরাহের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ

এশিয়া এনার্জি কোম্পানিকে (জিসিএম) দেশ থেকে বহিষ্কার, নেতাদের নামে মামলা প্রত্যাহার, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা এবং বিদেশি কোম্পানিকে না দিয়ে দেশীয় কোম্পানিকে ভোলার গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়ে বরিশালে গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদর রোডে এ কর্মসূচির আয়োজন করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বরিশালের নেতারা।

কমিটির বরিশালের আহ্বায়ক অধ্যাপক সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আ. ছত্তার, কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব শাহ আজিজুর রহমান খোকন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির হারুন অর রশিদ মাহমুদ, বাসদ বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য আরিফুর রহমান মিরাজ প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের এই দিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি প্রকল্প বাতিল, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং বিদেশি কোম্পানি এশিয়া এনার্জিকে ফুলবাড়ী থেকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ ও বিডিআর গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনজন, আহত হন বহু মানুষ। ঘটনার ১৫ বছর হয়ে গেলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে হওয়া ছয় দফা চুক্তি।

তারা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালের এই দিনে বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি ফুলবাড়ির শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছিলেন ক্ষমতায় আসলে ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন হবে।

তারা বলেন, আমরা চাই ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হোক আর ভোলার গ্যাস বিদেশি কোম্পানিকে উত্তোলন করতে না দিয়ে, দেশীয় কোম্পানিকে ভোলার গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব দিয়ে বরিশালে গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হোক। এতে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। বেকারত্ব কমবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাড়বে।

সমাবেশ শেষে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক হয়ে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে নেতারা ফুলবাড়ী শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin