বাউফলে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসুতির মৃত্যু

সিটি নিউজ ডেস্ক ॥ পটুয়াখালীর বাউফলে চিকিৎসকের অবহেলায় সাথি আক্তার (২০) নামের এক প্রসুতি মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে কালিশুরী নিউ লাইফ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী চিকিৎসকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাথি আক্তার উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাদ গ্রামের মিলন হাওলাদারের স্ত্রী।

সাথির বাবার বাড়ি একই ইউনিয়নের মান্দারবন গ্রামে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রসববেদনা নিয়ে সাথি বুধবার বিকালে ওই ক্লিনিকে ভর্তি হন। সন্ধ্যা ৭ টায় সাথির সিজার অপারেশন করেন ডা. আহমেদ কামাল তুষার ও ডা. নাবিলা রহমান। এ সময় সাথি একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। অপারেশনের কিছুক্ষণ পরই সাথির অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এক পর্যায়ে সাথি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। দ্রুত সাথিকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়।

সেখানে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সাথিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সাথির ভাই শুভ বাদী হয়ে বাউফল থানায় ২ চিকিৎসকসহ ৮ জনকে আসামী করে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে আসামীদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ সাথির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মামলার বাদী শুভ বলেন, চিকিৎসকের অবহেলায় আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। আমি ন্যায় বিচার চাই। আর ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। এদিকে ডা. আহমেদ কামাল তুষারের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি কলকাতার একটি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রীর সনদ নিয়ে সিজার অপারেশন করছেন। তার এসএসসি ও এইসএসসি পরীক্ষা পাশের সনদপত্র নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে আহমেদ কামাল তুষার বাউফলের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ক্লিনিকে দেদারসে সিজার অপারেশন করছেন।

এরআগেও তার হাতে কয়েকজন প্রসুতির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। ডা. আহমেদ কামাল তুষার গত ১৮ জুলাই সেবা ক্লিনিকে লিপি আক্তার নামের এক প্রসুতি নারীর সিজার অপারেশন করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ার পর লিপিকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ আগষ্ট লিপি আক্তার মারা যান। এরআগে সেবা ক্লিনিকে ডা. আহমেদ কামাল তুষারের হাতে কালাইয়া সবুজবাগ এলাকার নীপা রানী নামের এক প্রসুতির মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে জানার জন্য ডা. আহমেদ কামাল তুষারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ডা. নাবিলা রহমান বলেন, আমি ক্লিনিকের ডিউটি ডক্টর হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। সিজার অপারেশরেশনের সঙ্গে জড়িত না। আমাকে আসামী করার মানে হয় না।

তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করে ডা. আহমেদ কামাল তুষার রোগীকে প্রথমে স্পাইনাল অ্যানেশথেশিয়া (শরীরের নিম্মাংশ অবশ) প্রয়োগ করেন। এরপর তিনি নিজেই সিজার অপারেশন করেন। সার্জন কিভাবে অ্যানেশথেশিয়া প্রয়োগ করলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি ক্লিনিক কতৃপক্ষকে অবহিত করার পর তারা আমাকে বলেন, এটা দেখার দায়িত্ব আমাদের, আপনার নয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি অত্যাধুনিক জরুরী প্রসুতি সেবা বিভাগ থাকলেও কতিপয় চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও দালালদের কারনে তা অচল হয়ে আছে। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসুতি নারীদেরকে বিভিন্ন কৌশলে বাণিজ্যিক ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

অধিকাংশ ক্লিনিকেই সরকারি নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ও বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বাণিজ্যিক ক্লিনিকগুলো পরিচালিত হচ্ছে। ফলে রোগীরা প্রতারিত হলেও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ জাহাংগীর আলম বলেন, আহমেদ কামাল তুষার একজন ভূয়া চিকিৎসক। প্রসুতি মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে ক্লিনিক কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin