শ্যালিকাকেও ভাগিয়ে বিয়ে করলেন পুলিশ সদস্য!

বিয়ের এক বছরের মধ্যেই ছোটবোনকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন এক পুলিশ সদস্য। ঢাকার ধামরাইয়ে দুই বোনের এক স্বামী। একই ঘরে একসঙ্গে তাদের বসবাস। স্বামী সোলাইমান হোসেন পেশায় পুলিশ কনস্টেবল।

তিনি ঢাকা মেট্রোপুলিটন পুলিশের মিরপুর জোনে কনস্টেবল পদে কর্মরত। তিনি ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের কাঁচা রাজাপুর গ্রামের কৃষক মো. শওকত হোসেনের ছেলে।

বছরখানেক আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বড়বোন হাসনা আক্তারের বিয়ে হয় পুলিশের ওই কনস্টেবলের সঙ্গে। বিয়ের বছর না পেরুতে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় ওই পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ছোটবোন। মূলত তাকে ওই প্রতারক পুলিশ সদস্য মো. সোলাইমান সবার অলক্ষ্যে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর গোপনে শ্যালিকাকে বিয়ে করে আলাদা বাসায় উঠে ওই পুলিশ সদস্য। কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

বড়বোনের স্বামী পুলিশ সদস্য নিজেকে নির্দোষ বোঝাতে নিখোঁজ শ্যালিকাকে খোঁজাখুঁজি করতে সহায়তা করে পরিবারের সদস্যদের। খোঁজাখুঁজির ৮ মাসের মাথায় বৃহস্পতিবার যখন ওই পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ছোটবোনকে (শ্যালিকা) পাওয়া যায়, তখন সে ৭ মাসের গর্ভবতী এবং পুলিশ দুলাভাইয়ের সহধর্মিণী। অপরদিকে বড়বোনও ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় কাওয়ালীপাড়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতারণার শিকার দুই বোনের চাচা মো. আব্দুর রফিক মিয়া। প্রতারক কনস্টেবল সোলাইমান হোসেন ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের কাঁচা রাজাপুর এলাকার মো. শওকত হোসেনের ছেলে। তার পুলিশ আইডি নং-ইচ-৯৭১৬১৮২০৯৯ বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছর ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে কাবিন রেজিস্ট্রিমূলে ৪ লাখ টাকা নগদ যৌতুক দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল সোলাইমান হোসেনের সঙ্গে হাসনা আক্তারের বিয়ে হয়। এরপর থেকে সব ঠিকঠাকই চলছিল। তবে ছোটবোন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে তার মাথায় চেপে বসে নানা দুশ্চিন্তার পাহাড়। তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় জিডিও করা হয়। লোক দেখাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিখোঁজ তরুণীকে খোঁজাখুঁজি করে ওই লম্পট দুলাভাই সোলাইমান হোসেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকায় খোঁজ মেলে নিখোঁজ ওই তরুণীর। তবে সে এখন ৭ মাসের গর্ভবতী।

ওই দুই তরুণীর চাচা মো. আব্দুর রফিক মিয়া বলেন, ২০১৬ সালে সোলাইমান হোসেনের চাকরির জন্য ৪ লাখ টাকা দেই আমরা। পরে চাকরি হলে গত বছর তার সঙ্গে আমার বড় ভাতিজি হাসনা আক্তারের বিয়ে দেই। তাদের সুখের সংসার ছিল। এর মধ্যে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ছোট ভাতিজি নিখোঁজ হয়। পরে আমরা কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিখোঁজ জিডি করি। পুলিশ তদন্তে জানা যায়, আমার ছোট ভাতিজি কনস্টেবল সোলাইমানের সঙ্গেই আছে। এরপর বৃহস্পতিবার তাকে উদ্ধার করি।

প্রতারণার শিকার তরুণী (শ্যালিকা) রিহান আক্তার চুমকী (নাসির উদ্দিনের মেয়ে) জানান, আমি আমার দুলাভাইয়ের নির্মম প্রতারণার শিকার। আমাকে বেড়ানোর কথা বলে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে করে বোনের সতিন বানিয়েছে। এখন আমি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি এর বিচার চাই।

অভিযুক্ত কনস্টেবল সোলাইমান হোসেন জানান, বিয়ের পর থেকেই শ্যালিকাকে পছন্দ হয় আমার। এছাড়া সেও আমাকে খুব পছন্দ করে। তাই তাকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করি। সে এখন আমার বৈধ স্ত্রী। আমি দুই স্ত্রীকে নিয়েই সংসার করতে চাই।

কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লা বলেন, এ ব্যাপারে থানায় জিডি দায়ের হলে নিখোঁজ তরুণীর পরিবারকে ওই তরুণীর অবস্থান জানানো হয়। পরে তারা নিজেরাই কৌশল অবলম্বন করে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরে দৃষ্টিগোচরে রয়েছে। ওপর মহলের নির্দেশ না পাওযা পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমাদের কোনোপ্রকার পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ একেবারেই নেই। আমরা নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নির্দেশনা পেলেই এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin