বরিশাল পুলিশের মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন, তবুও…….

সিটি নিউজ ডেস্ক :: নিত্য দিনের মতো গতকাল মাঝরাতে বরিশাল মেট্রাপলিটন পুলিশ (বিএমপি’র) চার থানা এলাকায় তদারকিতে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। গত রাতে পরির্দশক ‍আবদুর রহমান মুকুলের ডিউটি ছিল। তিনি বিভিন্ন এলাকায় অফিসার ও ফোর্সদের ডিউটি তদারকি শেষে রাত অনুমান সোয়া দুইটায় পুলিশ লাইন্স কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে। কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে সেখানথেকে বিএমপি’র চার থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যে সিসিটিভি বসানো হয়েছে তার কন্ট্রোলিং সেন্টার ওখানে বসে সব কিছু মনিটরিং করা হয়। এখানে ২৪ঘন্টাই পুলিশ সদস্যরা মনিটরিং করে থাকেন। কমান্ড এন্ড কন্ট্রোল রুম বরিশাল মহানগরীর জনসাধারণের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন নিশ্চতকল্পে বিএমপি’র পুলিশ কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন খান পিপিএম ‍এর নিজ উদ্যেগে স্থাপিত হয়েছে ‍এই সিসিটিভি।পরির্দশক ‍আবদুর রহমান মুকুল গতরাতে সিসিটিভি মনিটরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এর ভিডিও দেখতে দেখতে তখন হঠাৎ করে কাউনিয়া থানার শায়েস্তাবাদ বাজারের একটি চিত্র তার নজরে আসে। তিনি দেখতে পান ঐ বাজার মানবশূণ্য। একজন বয়স্ক পুরুষ দাড়ানো আর একজন মধ্যবয়সী মহিলা রাস্তার পাশে বসে আছে এবং তার সামনে ‍আরও একজন মহিলা রাস্তার পাশে শোয়ানো অবস্থায় পরে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমি ঐ এলাকার মোবাইল টিম কে ওখানে পাঠালাম। একজন পুলিশ সদস্যের মোবাইলের মাধ্যমে ঐ ভদ্রলোকের সাথে কথা বলে জানতে পারি, ওনাদের বাড়ী শায়েস্তাবাদ নদীর ওপার থেকেও অনেক দূরে হায়াতসার গ্রামে। আমার মনে হলো তারা একে অপরের আত্মীয় এবং তারা কোন বিপদে পড়েছে। তাদের মধ্যে ‍এক ডিউটি অফিসার জানায় বয়স্ক মহিলাকে তারা বরিশাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে রাত অনুমান দুইটায় বাজারে পৌছানোর কিছুক্ষন পড়ে তিনি স্ট্রোক করেন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন । পুলিশ পরিদর্শক মুকুল আরও জানায়, তারা তাদের মাহেন্দ্র গাড়িটিও ছেড়ে দিয়েছেন, রাত বেশি হওয়ায় ওপারে যাবার খেয়া বন্ধ, ঐ বাজারে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা, যে বাড়ীটি শুধু ঐ অসুস্থ মহিলাই চেনেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় বাড়িটি খুজে পাওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। রাত গভীর স্বাভাবিকভাবেই বাজার জনমসনবশূণ্য ছিল। বাজারে তারা ‍এমন কাউকে পেলো না যারা তাদের সাহায্য করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি এ কথা শুনে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের গাড়ি আর লোকজন খোঁজার জন্য পাঠালাম। একজন সদস্য তাদের কাছে ছিল। এমন সময় ওখানকার একজন নাইটগার্ড সেখানে আসে। আমি আমার পুলিশ সদস্যের ফোনে তার সাথে কথা বলে তাকে দ্রুত একটি মাহেন্দ্র গাড়ির ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করি। তিনি অল্প সময়ের মধ্যে একটি মাহেন্দ্রের ব্যবস্থা করে এবং পুলিশ সদস্যরা ওনাদের গাড়িতে উঠিয়ে বরিশাল পাঠিয়ে দেয়। পুরো বিষয়টি সিসিটিভির মাধ্যমে আমি দেখছিলাম। এদিকে আমি শেবাচিম হাসপাতালে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের ঐ রোগীকে বরিশালে নিয়ে আসার বিষয়টি জানিয়ে রাখি যাতে সহজেই দ্রুত ভর্তি করা যায়। পরবর্তীতে রোগীর সাথে থাকা স্বজন জানায় তারা বাজার রোড এর একটি ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করিয়েছে। মনে শান্তি পেলাম ওনাকে আর যাই হোক অন্তত কিছুটা হলেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।মনে একটু শান্তি নিয়ে ডিউটিশেষে বাসায় ফিরে আসি আর মনে মনে আল্লাহর কাছে বলি ঐ ভদ্র মহিলা যেন সুস্থ হয়ে যায়। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে রোগীর সাথে থাকা ঐ লোকটার ( সম্ভবত ভদ্রমহিলার স্বামী) মোবাইলে ফোন করলাম ওনার খবর নেয়ার জন্য। কিন্তু মোবাইলের ঐ প্রান্ত থেকে কান্নার শব্দ শুনে আমার বুঝতে আর কিছু বাকী রইল না। ঐ প্রান্ত থেকে একজন ভদ্রমহিলা আমাকে জানালেন উনি আর আমাদের মাঝে নেই। “ইন্না নিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি আবার মনে হলো পৃথিবীতে ওনার হয়তো এটাই শেষ দিন ছিল। সান্তনা একটাই এরকম নির্জন গভীর জনমানবশূণ্য রাতে আর যাই হোক আমরা পুলিশরা ছিলাম তার ও তাদের পাশে। এভাবেই যেন থাকতে পারি বাকী জীবন মানব কল্যানে। ধন্যবাদ মাননীয় পুলিশ কমিশনার স্যারকে যার কল্যানে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনে মানব কল্যানে সিসিটিভি বেষ্টিত আমাদের বরিশাল মহানগরী। ধন্যবাদ আমার সহকর্মীদের।”আমি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে গর্বিত ” বাংলাদেশ পুলিশ হোক মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সূত্র: পুলিশ পরিদর্শক ‍এআর মুকুল, পিপিএম।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin