বিএনপি নেতা সরোয়ারের বোনের দাফন আটকে দিলো পুলিশ, অত:পর

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ বরিশাল নগরীর কাউনিয়া সাধুর বটতলা এলাকায় নিজ ঘর থেকে লিমা বেগম (৪০) নামের দুই সন্তানের জননীা রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের করতে গেলে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর কাউনিয়া সাধুর বটতলা এলাকায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবং সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের বাড়ির পাশে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত লিমা মজিবর রহমান সরোয়ারের চাচাতো বোন।মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. ছগির হোসেন জানিয়েছেন, নিহত লিমার গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে তার ময়না তদন্ত হয় । পুলিশ এবং পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ‘লিমা বেগমের স্বামী খায়রুল আলম মোল্লা। তার মৃত্যুর পরে লিমা নিজের পছন্দে অন্য পুরুষকে বিয়ে করেন।

তবে লিমা ও খায়রুলের সংসারে একটি মেয়ে এবং একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, ‘লিমা নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসে চাকরি করতন। ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মেডিনোভা থেকে বাসায় ফিরে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন।

এরপর থেকেই তার কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের লোকেরা দরজা ভেঙে লিমার মৃতদেহ উদ্ধার করেন। তবে বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় থানা পুলিশকে অবগত না করে তড়িঘড়ি করে মৃৃতদেহ দাফন কাফনের চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা।কাউনিয়া থাানার পুলিশ পরিদর্শক ছগির হোসেন বলেন, ‘লিমা বেগম এর মৃত্যু হয়েছে ২টা ৪৫ মিনিটে। কিন্তু আমরা খবর পাই সন্ধ্যায়।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের টিম নিহতের বাড়িতে যাই। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাবার আগেই মৃতদেহের গোসল এবং জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে লাশ দাফনের জন্য নিয়ে যেতে গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। সে অবস্থাতেই আমরা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠাই। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিহতের গলায় ফাঁসের চিহ্ন পেয়েছি।

পরিবারও জানিয়েছে সে পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছে। তবে পারিবারিক কারণ কি সেটা এখনো জানা যায়নি। তাছাড়া কেনই বা তড়িঘড়ি করে মৃতদেহ দাফনের চেষ্টা করা হয়েছে সেটাও আমরা অবগত নই।এই বিষয়টি আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পাশাপাশি শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহের ময়না তদন্ত হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin