১৮ মাস পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পা রাখলো শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারি নির্দেশনায় আজ থেকে খুলতে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মূখরিত হবে শিক্ষাঙ্গন। তাই কর্ম ব্যস্ত ছিল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা যেমন ধুয়ে মুছে পরিস্কার করেছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পোষাক ও বই খাতা। তেমনি ভাবে স্কুল কলেজের প্রতিটি অঙ্গন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয়, কোন কোন স্কুল কলেজে করা হয়েছে নতুন করে রং।

কোন প্রতিষ্ঠান আলপনা, ক্লাস রুমে বেলুন দিয়ে সাজাতেও দেখা গেছে। সব মিলিয়ে স্কুলে স্কুলে যেন আনন্দ উৎসব বিরাজ করছে। এদিকে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের দেওয়া ১৯ দফা শতভাগ বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধানরা। প্রায় দেড় বছর পর আজ রবিবার থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলায় উচ্ছ্বসিত বরিশালের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারের দেওয়া ১৯ দফা শতভাগ বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধানরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসার পর স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া এবং বেঞ্চে দূরত্ব বজায় রেখে বসা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের স্কুলে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন নগরীর স্কুল প্রধানরা। সেই সঙ্গে করোনা রোগীর বাসা থেকে শিক্ষার্থীকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেছেন তারা। বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গেট থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

মাস্ক ছাড়া কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নেবে। এ জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি বেঞ্চে কীভাবে বসবে তারও দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে শিক্ষকদের। এ ছাড়া সরকারের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা তদারকির জন্য একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা রোগীর বাসা থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার দরকার নেই।’ হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম ফখরুজ্জামান বলেন, ‘গেটে শিক্ষক এবং কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করবেন।

মাস্ক ছাড়া কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরপরও কেউ মাস্ক ছাড়া এলে বিদ্যালয় থেকে দেওয়া হবে।’ ইধৎরংধষ-ংপযড়ড়ষ-২শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ে আসার পর শিক্ষার্থীদের প্রথম কাজ স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া। এ জন্য বেসিন থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্লাসে ঢুকে এক বেঞ্চের দুই মাথায় দুই জন শিক্ষার্থী বসবে।

শিক্ষার্থীরা বারান্দায় থাকলে সেক্ষেত্রে দাঁড়ানোর জন্য গোলাকার চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সামনে জীবাণুনাশক কার্পেট দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই আক্রান্ত না হয় সে জন্য সরকারের দেওয়া সব নির্দেশনা মানা হবে। একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলছেন, কারও বাসায় করোনা রোগী থাকলে সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না। একই অনুরোধ থাকবে শিক্ষকদের বেলায়ও।

এ ছাড়া অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে আসার দরকার নেই। নগরীর ইংরেজি ভার্ষনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহানারা ইসরাইল স্কুল এন্ড কলেজ। গত শনিবার স্কুলটিতে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের প্রতিটি কক্ষ নতুন করে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি দরজা-জানালা ও শিরির গ্রিল জীবানুনাশক ওষুধ দিয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। পুরো স্কুলটিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষিকা মুন কর্মকার জানান, আমার স্কুল বন্ধ থাকলেও প্রতি সপ্তাহে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। শিশুদের জন্য পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এখন ক্লাসরুম সজ্জার কাজ চলছে।

শিশুদের রুম গুলোতে বেলুন দিয়ে সাজানো হচ্ছে। বাহিরে আলপোনা দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কবি এসএম শেলী বলেন, স্কুলের পাঠানোর পর তাদের সুরক্ষার দায়িত্ব পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর। সেই চিন্তা থেকে পুরো প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের প্রবেশকালে হাত ধোয়া, জীবানুনাশক স্প্রে করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা শিশুদের একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দিতে চাই। বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘করোনা সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনা শতভাগ মানা হবে।

এক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’ বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন বলেন, করোনার কারণে পাঠ বন্ধ থাকলেও বাকি সব কিছুই চালু ছিল। যার কারণে কম বেশি সব স্কুলেই উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। এমনকি স্লিপ ফান্ড থেকে স্কুল পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশনা ছিল। পাশাপাশি শিশুরা স্বাস্থ্য বিধি মেনে যেন স্কুলে প্রবেশ করতে পারে সেই বিষয়ে কাজ করার নির্দেশনা ছিল সরকারের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে শিশুদের হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে প্রতিটি স্কুলে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin