২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৬ প্রার্থীর জমজমাট লড়াই, মনোনয়ন জমা আজ

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের উপ-নির্বাচনের ভোট আগামী ৭ অক্টোবর। এতে প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য ৬ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। আজ সোমবার মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন। তাদের মধ্যে ৫ জন নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এক জন ব্যক্তিগত কারনে নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গতকাল রোববার এ ওয়ার্ডের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটার সহ প্রার্থীদের সাথে আলাপ করা হয়েছে।

আলাপে ভোটারদের ভাষায় উঠে এসেছে নানা সমস্যার বিষয়। অন্যদিকে প্রার্থীরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত হতে পারলে জনগনের পাশে দাড়িয়ে করবেন যাবতীয় সমস্যার সমাধান। একই সাথে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন একাধিক প্রার্থী। তবে শঙ্কাও রয়েছে কিছু প্রার্থীর মধ্যে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন অফিসের সূত্র জানিয়েছে, ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২০ সেপ্টেম্বর প্রতীক বরাদ্ধ হবে। এরপর আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারনা শুরু করতে পারবে প্রার্থীরা।


নির্বাচন নিয়ে ওয়ার্ডের একাধিক সাধারন ভোটার জানান, ওয়ার্ডে বর্তমানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, মাদকের উপদ্রব সহ নানান ধরনের অপ্রতুল নাগরিক সুবিধা। বিগত সময়ে নির্বাচিত কোন জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও তা পুরন করেননি। তাই এ সমস্যা সমাধানে যে প্রার্থীরা অঙ্গীকারের সাথে মিল রেখে কাজ করতে পারবে তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত প্রার্থী যেহেতু আগামী দেড় বছরের মতো সময় পাবে। তাই সর্বাধিক যোগ্যকেই নির্বাচিত করতে ইচ্ছুক তারা। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন। একই সাথে প্রভাব মুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে এই ওয়ার্ডটিতে উপ-নির্বাচনের জন্য মোট ৬ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছে সাবেক মেম্বর সৈয়দ গোলাম কবির মামুন, মো: জাহিদ হোসেন (রুবেল), কাজী মোহাম্মদ আলী, সাবেক কাউন্সিলর মরহুম জাহাঙ্গীর কবিরের ছোট ভাই মো: হুমায়ুন কবির, পর পর ৩ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মো: হুমায়ুন কবির এবং সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী হাসান মো: জিহান। এদের মধ্যে ব্যক্তিগত কারনে কাজী মোহাম্মদ আলী নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন। অন্যান্যরা সকলে নির্বাচনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করবেন। প্রতিক বরাদ্ধ পেয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রচার প্রচারনা শুরু করবে বলে সকলে জানিয়েছেন। বর্তমানে তারা ঘরোয়া প্রচার প্রচারনা শুরু করেছেন।
প্রার্থী মো: হুমায়ুন কবির জানান, ২০০৩ সালে প্রথম নির্বাচিত হওয়ার পরে এ পর্যন্ত ওয়ার্ডটিতে তিনি পরপর ৩ বার নির্বাচিত হয়েছেন। অবহেলিত এই ওয়ার্ডটির নানা ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ তার হাতে হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে ওয়ার্ডে। নির্বাচিত হতে পারলে সকল সমস্যা সমাধান করবেন তিনি। তবে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শংকা রয়েছে তার। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তবে অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় দ্বিগুন ভোটে নির্বাচিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই প্রার্থী। এছাড়া তিনি এই ওয়ার্ডের সকল সমস্যা এবং ওয়ার্ডের ভোটারদের প্রয়োজন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছে। তাই যত স্বল্প সময় থাকুক না কেন নির্বাচিত হলে তিনি সমস্যা গুলো সমাধান করতে পারবেন।
প্রার্থী সৈয়দ গোলাম কবির মামুন বলেন, ৩৬ বছর আগে মেম্বর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ওয়ার্ডের সকল ধরনের সমস্যা তার নখদর্পনে। নির্বাচিত হতে পারলে রাস্তা, ড্রেন এর ব্যবস্থা করবেন। তিনি জনগনের প্রতিনিধি হয়ে সার্বিক উন্নয়ন মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার আগেই করোনার প্রার্দুভাবের সময় ওয়ার্ড বাসির পাশে থেকে সাধ্যমত সকল ধরনের প্রয়োজন পুরনের চেষ্ঠা করেছেন। এই প্রার্থী জানান, আগামী ৭ অক্টোবর সুষ্ঠু ভোট নির্বাচিত হবেন। কেউ যদি ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করে তবে তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।
প্রার্থী মো: জাহিদ হোসেন জানান, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। নির্বাচিত হলে নাগরিকদের সাথে আলাপের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করবেন। ভোট প্রশাসনের তদারকির মাধ্যমে সুষ্ঠু হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। নির্বাচনকে একটি উৎসব উল্লেখ করে মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় এগোতে চান এ প্রার্থী। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভোটাররা সর্বাধিক যোগ্যকে বাছাই করে নেবেন।
ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মরহুম জাহাঙ্গির কবিরের ভাই হুমায়ুন কবির জানান, নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করবেন। এছাড়া সকল ধরনের নাগরিক সমস্যা সমাধান করতে শতভাগ সচেষ্ট হবেন। প্রয়োজনে নিজের সর্বস্ব বিলিন করে জনগনের সেবা করবেন।


সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হাসান মো: জিহান জানান, প্রথমত একটি ওয়ার্ডে সাধারন যে সকল সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে সমাধানে নামবেন। নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডে প্রবীনদের পরামর্শ নিয়ে সকল সমস্যা সমাধান করবেন। আগামী ৭ অক্টোবর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২০ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক দেয়ার পরে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারনা শুরু করতে পারবেন।

আগামী ৭ অক্টোবর ২৮ নং ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনকে ঘিরে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহন হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর লিভার জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গির কবির মৃত্যু বরন করেন। এর পর থেকে ওয়ার্ডটি কাউন্সিলর শূন্য অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এই ওয়ার্ডে । ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। তিন কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin