চাকরি নয়, যৌনপল্লিতে বিক্রি হলো তরুণী

বরিশালের প্রান্তিক গ্রামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ঢাকার একটি যৌনপল্লিতে নিয়ে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সেখান থেকে পালিয়ে এসে বরিশাল মেট্রো পলিটন বন্দর থানায় তিনজনকে আসামি করে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেছে ভূক্তভোগি ওই তরুণী।

অভিযুক্তরা হলো- তরুণীর ফুফু, ফুফা ও চাচা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রো পলিটন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে এর সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থানা সূত্র আরো জানায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার ওই তরুণীর দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের কারণে বিয়ের দুই মাসের মধ্যে বিবাহবেচ্ছেদ হয়। বাবার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আপন ফুফু, ফুফা এবং চাচা তাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৯ মাস আগে ঢাকায় নিয়ে জুরাইন শনিরআখড়ার ভাড়া বাসায় রাখেন।

ওই তরুণী মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, চাকরির কথা বলে ঢাকায় নিলেও সেখানে গিয়ে দেখেন, অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক ছেলে-মেয়ে বাসাটিতে আসা যাওয়া করে। কয়েকদিন পর তার ফুফু ও ফুফা তাকেও দেহ ব্যবসায় বাধ্য করেন। তরুণী তাতে বাধা দিলে তারা তাকে মারধর করেন। গলা চেপে, মাথা দেয়ালের সঙ্গে আঘাত করে নির্যাতন চালায়। এভাবে দীর্ঘ পাঁচ মাস সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, এসময় তাকে মা-বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। সারাক্ষণ ফুফু পাশে থাকতেন। এরই মধ্যে চার মাস আগে তাকে অন্য আরেকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়। সেখানে কিছু দিন থাকার পর এক নারীর সহায়তায় পালিয়ে বরিশাল বন্দর থানার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।

তরুণীর বাবা বলেন, মেয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর আমার বোন, জামাই এবং ভাই আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় আমি মুক্তি পাই। আমার ভাই বলে, সাক্ষীকে মেরে ফেলতে হবে। মেয়েকে জীবিত রাখলে আমরা বিচার চাইব। এ জন্য তাকে মেরে ফেলা উচিত। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে তার কঠিন বিচার চাই।

তরুণীর মা বলেন, ফুফু হয়েও ভাইয়ের মেয়েকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেবে এটা বুঝতে পারিনি। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তারা আমার আপন দুই ননদকেও বিক্রি করে দিয়েছে। তাদের দেশের বাইরে পাচার করে দিয়েছে। সেখানে জীবন বাঁচাতে তারা পুলিশের হাতে ধরা দিয়েছে।

ওই তরুণীর মা আরও বলেন, তারা মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাদের মূল ব্যবসা হচ্ছে মানুষ বিক্রি করা এবং মেয়েদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা।

এদিকে আরও এক নারী থানায় অভিযোগ করেছেন, ওই তিনজন তার মেয়েকেও ঢাকায় নিয়ে যৌনপল্লিতে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়ে কৌশলে এই চক্রের হাত থেকে পালিয়ে এসে রক্ষা পান।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin