বরিশালে এখনও ডজনখানিক বেসরকারি স্কুল বন্ধ

* ধুঁকছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ব্যুরো:
বরিশালে করোনার প্রভাবে বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে তালা ঝুলছে। গত দেড় বছরে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও বরিশালের ডজনখানিক কিন্ডার গার্টেন বন্ধ হয়ে গেছে। বিভাগের ৪৮৩  বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কিন্ডার গার্ডেনের মধ্যে একশতাধিক প্রতিষ্ঠান চালু করা নিয়ে ধুকঁছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার খুলে দিলেও বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ খুলতে পারেনি। কোন কোন প্রতিষ্ঠান খুললেও সেখানে পূর্বের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শতকরা ২০ ভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে দাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবী করেছেন। এছাড়া গত দেড় বছরের এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক তাদের পেশা পরিবর্তণ করে অন্য পেশায় চলছে গেছেন।

তবে গত বছর ১৭ মার্চ দেশের করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ার পর সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। এর পর থেকে তালা ঝুঁলছে এই প্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বন্ধ হয়ে যায় এসব প্রতিষ্ঠানের আয়। কিন্তু বন্ধ হয় নাই এসব প্রতিষ্ঠানের বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, শিক্ষকদের বেতন। যার কারণে বরিশাল নগরীর গোরস্থান রোড স্কয়ার প্রিপারেটরি স্কুল, ফরেস্টার বাড়ি এলাকার জাগরণী কিন্ডারগার্টেন, লাকুটিয়া সড়কের এ্যাপটেক প্রিক্যাডেট স্কুল, কাজীপাড়ার মর্নিংসান প্রিপারেটরি স্কুল ও হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকার হলি চাইল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ এক ডজন স্কুল খুলতে পারেনি।

আর খুলতে পারবে না বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের। ২০১১ সালে নগরীর শ্রীনাথচ্যার্টাজীলেনে প্রতিষ্ঠা হয় মমতা কিন্ডার গার্টেনের। শুরু থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ছিলো এই প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু করোনার বন্ধর পর থেকে গত দুই তিন দিন গড়ে ৫ জন করে শিক্ষার্থী এসেছে এই প্রতিষ্ঠানে। এমনকি গত মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের ৭ শিক্ষকের বেতন। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ রিজিয়া খাতুন জানান, আমরা সর্ব শক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখবো। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাড়ি ভাড়া, বিদুৎ বিল, শিক্ষকদের বেতন এখনে নিজস্ব তহবিল থেকে দিচ্ছিন। আমরা চাচ্ছি প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে ঘুরে দাড় করাতে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একটি কিন্ডার গার্টেনের মালিক জানান, গত ১২ তারিখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এখনো শিক্ষর্থীদের আসা শুরু হয়নি। আমার প্রতিষ্ঠানে দুইটি শিফটে ৯০ জন শিক্ষার্থী আছে।

প্রতিষ্ঠান চালিয়ে নেয়ার জন্য ধার করে, ঋন করে প্রতিষ্ঠানের ঘরভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালিয়ে নিচ্ছি। কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহানারা বেগম জানান, কিন্ডার গার্টেন গুলোর আয়ের টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়াই হয় না। এর পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। যার কারণে কিন্ডার গার্টেনগুলো ধুঁকছে। তারপরও শত প্রতিকুল অবস্থায় আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। তিনি বলেন, কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকদের প্রণোদনার জন্য সরকারের শুদৃষ্টি কামনা করছি।


বরিশাল কিন্ডার গার্টেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবাহন বাচ্চু জানান, আমরা ফোরামের পক্ষ থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের মাঝে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা করেছি। পাশাপাশি শুভেচ্ছা সামগ্রীও বিতরণ করেছি। স্কুলের ভাড়া পরিশোধ ও অন্যান্য খরচের জন্য আমরা সরকারের কাছে ঋণ চেয়েছিলাম। যদিও সরকার আমাদের দিকে শুদৃষ্টি দেয়, তবে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে যাবে।

আমাদের এসব প্রতিষ্ঠানে নি¤œমধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত এবং গরিব ঘরের সন্তানরা পড়াশুনা করে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়বে। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়েটি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার কোন রকম প্রনদনা প্রদান করবে কি না তা এখনো আমার জানা নেই। যদিও এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের আওতায় নেই। কিন্তু এসব স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে তাদের শিক্ষার্থীদের আমরা অন্য স্কুলে ভর্তি বিষয়ে কাজ করবো।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin