শেবাচিমে অক্সিজেন গায়েবের ঘটনায় উল্টো মোড়

চাপা পড়ে যাচ্ছে শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা ইউনিটের অক্সিজেন সিলিন্ডার গায়েবের ঘটনা। তদন্ত কমিটির প্রধানের অসুস্থতার অজুহাতে এক মাসেও শেষ হয়নি এ ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম। ফলে ধরা ছোয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার গায়েব করার সাথে জড়িতরা।

অভিযোগ রয়েছে, ‘তদন্তে ধীরগতির সুযোগে অক্সিজেন সিলিন্ডার উধাও হয়ার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে জড়িতরা। এমনকি অক্সিজেন গায়েব নয়, বরং হিসাবে ভুলের কারণে এমনটি ঘটেছে বলে দাবি জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি’র শীর্ষ কর্মকর্তা। আবার হাসপাতাল পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলছেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে চলতি গত জুলা থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এক মাসে করোনা ইউনিট থেকে ৪৪টি অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৭৫টি অক্সিজেন পরিমাপের যন্ত্র হাই ফ্লো মিটার গায়েব হয়ে যায়। পরবর্তী গত ১৬ আগস্ট ঘটনার তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাককে প্রধান এবং সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানকে সদস্য সচিব করা হয়।

জানা গেছে, ‘করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগীর চাপ বেড়ে যায়। ওইসময় প্রতিদিন প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীকেই অক্সিজেনের মাধ্যমে কৃত্তিম শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে অক্সিজেন নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাহাকার লেগে যায়। পরে সরকারিভাবে সরবরাহ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান হিসেবে পাওয়া সিলিন্ডারসহ মোট ৬২৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে করোনা রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছিল।

এদিকে, গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে হাসপাতালের স্টোর অফিসার অনামিক ভট্টাচার্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ফ্লো মিটারের তালিকা তৈরি করেন। তাতে প্রাথমিকভাবে প্রায় একশ সিলিন্ডারের হদিস পাচ্ছিলেন না তিনি। এই ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ এবং রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড মাস্টার মশিউর আলম ফিরদাউসকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়।

এর পর পরই মশিউর আলম ফেরদৌসের সহযোগিতায় ৫০টির অধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার বেরিয়ে আসে। তার দাবি এগুলো হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তবে বাকি ৪৪টি সিলিন্ডার এবং ৭৫টি ফ্লো মিটারের হদিস এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।

অপরদিকে, ‘অক্সিজেন সিলিন্ডার গায়েব হওয়ার বিষয়টি প্রথম দিকে ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা চলে। কিন্তু বিষয়টি বাইরে প্রকাশ পেলে গত ১৬ আগস্ট এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে তদন্তের জন্য সময় বেধে না দেয়া হলেও যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট দিতে বলা হয়। কিন্তু কমিটি গঠনের একমাস হলেও বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়নি।

তদন্ত কমিটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ‘কমিটির প্রধান ডা. আব্দুর রাজ্জাক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এ কারণে তদন্ত কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ ছিল। একমাস পরে গত মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি’র বোর্ড বসে। সেখানে করোনা ইউনিটে দায়িত্বরতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, অক্সিজেন চুরির ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।

সিলিন্ডার চুরি হলেও তদন্ত কমিটি সেটিকে নিছক ভুল হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে সিলিন্ডার গায়েব হওয়ার বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষে তদন্ত কমিটিকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট সূত্রটি।

সার্বিক বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কর্মচারীর সংখ্যা অনেক। এদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেও সময়ের প্রয়োজন। মূলত এ কারণেই তদন্তে অনেক সময় লেগে গেছে। তবে আশাকরা যাচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই আমরা প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ঘটনা যা ঘটেছিলো এখন তার উল্টোটা দেখা যাচ্ছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার গায়েব হয়নি। বরং এগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। তাছাড়া হিসাবেও ভুল হয়েছে। যারা অক্সিজেন সিলিন্ডার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন তারা সঠিকভাবে এগুলো খাতায় তোলেনি। পূর্নাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার পরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন বলেও জানান তিনি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin