র‌্যাগ ডে ব্যা‌ধি

সিটি নিউজ ডেস্ক ‍॥ বরিশাল সরকারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা সমাপন শেষে ’র‌্যাগ ডে’ পালন করছে নগরী অভিজাত হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে। এ নিয়ে নাগরিক সমাজ উদ্বিগ্ন হলেও একর পর এক এই আয়োজন চলছে।

নগরীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী যারা ২০২২ সনের এস এসসি দেবে তারা আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নগরীরর হান্ডি করাই রেস্টুরেন্ট এ ’র‌্যাগ ডে’ আয়োজন করেছে। ১২০ শিক্ষার্থী ছারাও অন্তত বিশ জন অভিভাবক এখানে যোগ দেবেন। এ নিয়ে নগরীরর উইমেন্স কলেজে চলছে এর র‌্যাগ ডের জন্য নাচের রিহার্সাল।

সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা হোসেন এই প্রতিবেদক কে জানান,’ তারা এসছিল স্কুলে করার অনুমতি দিতে, কিন্তু এখন আমি এই পরিস্থিতিতে অনুমতি দিতে পারিনা -তাই তাদের না বলেছি। পরে তারা হান্ডি করাই তে এর আয়োজন করছে। আমনি তাদের নিষেধ করা সত্তেও তারা সুপারসিড করে এটা করছে।

খোজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিজনে ৮০০ টাকা নিয়ে তারা করছে এই উদযাপন। এই আয়োজনের পিছনে রয়েছে বিশেষ কয়েকজন অভিভাবকের অতি উৎসাহ।

শুধু মাত্র ২০২২ সালের শিক্ষার্থীরা নয় প্যান্ডেমিক এর মধ্যে যখন স্কুল বন্ধ ছিল তখনও ২০২১ সা‌লের এসএসসি ব্যাচ নগরির একটি হোটেলে এই আয়োজনটি করেছে। শুধু এই স্কুল নয়।নগরীরর সবেচেয়ে প্রাচীন ও অভিজাত স্কুল বরিশাল জিলা ¯স্কুলের এই বছরের ১৮ জানুয়ারী ২০২১ সালেরর এসএসসি ব্যাচের র‌্যাগ ডে অনুষ্ঠিত হয় হোটেল সেডোনাতে। এ ছারা হোটেল সেরিনাতেও আরজুমনি সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র‌্যাগ ডে অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল জিলা স্কুল এর প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান স্কুল মাত্র খুলেছে এই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোজ নিচ্ছি, এই বিষয়ে কারো আগ্রহ থাকলে তাদের নিষেধ করার জন্য আমি শিক্ষকদের এখই জানাচ্ছি।

শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া জেসমিন জানান, আমি নোটিশ দিয়েছি এই ধরনের র‌্যাগ ডে যাতে পালন করা না হয়। এর মধ্যে অতি উৎসাহী একজন শিক্ষার্থীকে শাস্তিও দিয়েছি।

মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এহতেশামুল হক জানান, স্কুলের বাইরে ওরা করলে আমরা কি করতে পারি- আমাদের পুলিশের ভূমিকা নেয়া সম্ভব নয়।

শহীদ আরজমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবাদুল ইসলাম জানান, অইম শিক্ষকদের সাথে মিটিং করছি এরকম যাতে না হয়, সেই রকম নির্দেশ দিচ্ছি।

বরিশালের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান এই বিষয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের শিক্ষার ঐতিহ্যের সাথে যায় না। আমি বিষয়টি দেখছি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি সোহেল মারুফ জানান আমি বিষয়টি শোনার পরে সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষককে জানালাম। কিন্তু অভিভাবকরা তাদের সিদ্ধান্তে অনর রয়েছেবলে প্রধান শিক্ষক জানালেন।

এদিকে এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বরিশালের শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন।

সাবেক শিশষু বিষয়ক কর্মকর্তা পংকজ রায় চৌধুরী জানান- এটা শিশুদের জন্য অত্যন্ত সুদুরপ্রসারী। স্কুলের যাবতীয় বিষয় স্কুলেই হওয়া উচিত কোন হোটেলে নয়।

বরিশালের বিশিষ্ট সাংবাদিক আনিসুর রহমান খান স্বপন জানান এই ট্রেন্ড বন্ধ না হলে আগামী দিনে সব স্কুলই চাইকে হোটেলে এই ধরনের আয়োজন করতে।

সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক শাহ সাজেদা জানান অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্ত ক্ষেপ দরকার। কোমলমতি শিশুদের নিয়ে এই ধরনের অনুষ্ঠানে যে সব অভিভাবকরা সায় দিয়েছেন তারা ঠিক করেন নি। এ্টা বন্ধ হওয়া দরকার। এখন প্যান্ডেমিক যায় নি। রাস্ট্রীয় পর্যায়ে থেকে এই ধরনের অনুষ্ঠান করা হচ্ছে না। তারা কিখাবে করতে যায়। এটা প্রশাসনের শক্ত হাতে দেখতে হবে।

অভিভাবকরা জানান একেক স্কুল অপর স্কুল কে দেখিয়ে এই ধরনের আয়োজনে উৎসাহী হয়ে উঠেছে। এর ফলে বরিশালের সকল স্কুলের ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে হোটেলে স্কুলের অনুষ্ঠান করার। এখন পর্যন্ত হলে যায় নি। সএটি বন্ধ না হলে আগামী দিনে শিক্ষা ঐতিহ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin