আমি তাকে ধাক্কা দিয়েছি, থাপ্পর দেইনি: সংসদ সদস্য রিমন

সিটি নিউজ ডেস্ক:: সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মৎস্য ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামকে গালিগালাজ ও চড় থাপ্পর দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন এমপি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তাকে ধাক্কা দিয়েছি, থাপ্পর দেইনি।’ শওকত হাচানুর রহমান রিমন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। দলীয় সংসদ সদস্যের পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এমপি রিমন। 

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২৪ সেপ্টেম্বর কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে আমার বিরুদ্ধে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়।  এ ছাড়াও ২৫ সেপ্টেম্বর একটি টিভি চ্যানেল একই নিউজ প্রচারিত হয়। ওই সব নিউজে দেখা গেছে আমার গাড়ি বহরে সাইড না দেওয়ায় আমি জনৈক নজরুল ইসলামকে চর থাপ্পর দিয়েছি। যা আদৌ সত্য নয়।’ 

২২ সেপ্টেম্বর বিকালে আমি স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ছাত্রলীগ কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল খেলার প্রধান অতিথি হিসাবে মোটরসাইকেলে রওনা দেই। পথিমধ্যে জনৈক নজরুল ইসলাম একটি মাইক্রোবাস আমার সামনে সামনে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে চালাচ্ছিল। আমার বহরে থাকা ছাত্রলীগ নেতা সামনে গিয়ে সাইড না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম আমার সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করেন। যা আমি বলতে চাই না। আমি সভাস্থলে পৌঁছলে নজরুল ইসলাম নিজের ভুল বুঝতে পেরে আমার নিকট ক্ষমা চায়। এ সময় আমি নজরুলকে ধাক্কা দিয়ে দিয়ে বলি ‘ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। কিন্তু উক্ত ঘটনাকে বিকৃত করে উদ্দেশ্য আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিডিয়া প্রচার করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক। 

নজরুল সম্পর্কে এমপি রিমন আরো বলেন, ‘পাথরঘাটার মানুষের মধ্যে সে বোমা নজরুল, টপ সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা চলমান। এ সময় তিনি প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষরা সব সময় আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন
করায়।’

নজরুল দলের কেউ নয় উল্লেখ করে রিমন বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে নজরুল ইসলাম সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। কিন্তু আমার জানামতে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। এ ছাড়াও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতিরও নেতা নয়, নজরুল ইসলাম পাথরঘাটা বিএফডিসির মৎস্য বাজার ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের ১০০ নম্বর সদস্য।

বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি ও সাধারণ নাগরিকদের মারধরের বিষয়ে এমপি রিমন বলেন, ২০১৭ সালে পাথরঘাটা হাসপাতালের ডা. শাহনাজ পারভীন ডিউটি না করে অন্যত্র অবস্থান করে। পরে এসে হিসাব রক্ষক এর সহযোগিতায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে বেতন তুলে নেন। আমি ওই হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক এর সঙ্গে ‘রাগ’ করেছিলাম। কেন তিনি ডাক্তারের স্বাক্ষর নিলেন। অথচ আমার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় নিউজ হয় আমি প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষককে লাঞ্ছিত করেছি, এটা সঠিক নয়।

এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার বিগত সময়ে ওঠা তাতীলীগ নেতা ইদ্রিস চৌধুরীকে মারধর, চরদুয়ানী এলাকার প্রিয়াঙ্কা মিত্র নামের এক নারীকে গালিগালাজ ও তাইমুল নামের এক যুবককে মারধর, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পাথরঘাটার বাশতলার হোসনেআরা রানীকে গালিগালাজ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপসহ বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আলতাফ হোসেনসহ বরগুনার বেতাগী, বামনা পাথরঘাটার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin