দাপুটে জয়ে আশা বাঁচিয়ে রাখলো বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে থাকল বাংলাদেশ। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানকে ২৬ রানে হারিয়ে স্বস্তির জয় পেয়েছে টাইগাররা। ১৫৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে নয় উইকেটে ১২৭ রানের বেশি করতে পারেনি ওমান।

নড়বড়ে ব্যাটিংয়ের পর ছন্নছাড়া বোলিং! এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল, আজই বিদায়ের ঘণ্টা বাজবে বাংলাদেশের। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন হয়নি। ওমানের বিপক্ষে কষ্টের জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার আশা টিকে রইল বাংলাদেশের।

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ওমানকে ২৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ। নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি ওমান ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ড যদি ওমানকে হারিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশ যদি পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলেই সুপার টুয়েলভে উঠবে মাহমুদউল্লাহর দল।

এর আগে ওমানের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৩ রান করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন নাঈম শেখ। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ১২৭ রান করে ওমান।

রান তাড়া করতে নেমে বেশ আত্মবিশ্বাসী শুরু করে ওমান। বোলিংয়ের শুরু থেকেই অগোছালো ছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১২ রান দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে উইকেট পেলেও পাঁচটি ওয়াইড দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছয় বলের ওভার মুস্তাফিজ করেন ১১ বলে।

শুধু বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়েও বেহাল দশা ছিল বাংলাদেশের। বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। সহজ ক্যাচ মিস করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ষষ্ঠ ওভারে উইকেটের সুযোগ তৈরি করলেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের বল আকাশে তুলে দিলেন জাতিন্দর সিং। অনেক সময় পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ, বলের নিচে গিয়ে দুই হাতে ধরেছিলেনও। কিন্তু মুঠোয় আটকে রাখতে পারলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১০ রানে জীবন পেয়ে গেলেন জাতিন্দার সিং। ক্যাচ মিস করেন মুস্তাফিজ নিজেও।

মুস্তাফিজ দুই উইকেট তুলে নিলেও বেশ চাপে বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিনের ওভারে ক্যাচ তুলে দেন ক্যাশপ প্রজাপতি। ঝাঁপিয়ে দুই হাতে বল ধরলেও মুঠোয় রাখতে পারেননি মুস্তাফিজ। ছয় ওভারের মধ্যে মুস্তাফিজ দুই উইকেট নিলেও বাজে ফিল্ডিংয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

১৩তম ওভারে জাতিন্দরকে আউট করে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান সাকিব। ৩৩ বলে ৪৪ করে ফিরে যান ওমানের এই টপ অর্ডার। সেখান থেকেই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রানের গতি কমে যায় ওমানের। বাংলাদেশি বোলাররাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। চেপে ধরে ওমানকে। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে চার ওভারে সর্বোচ্চ চার উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মেহেদী নিয়েছেন এক উইকেট।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বল থেকেই বেশ নড়বড়ে দেখা যায় বাংলাদেশি ওপেনারদের। দুই ওয়াইড পেয়ে রানের খাতা খোলে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ওপেনাররা নিতে পেরেছেন কেবল এক রান।

দ্বিতীয় ওভারে স্ট্রাইক পান লিটন। কলিমউল্লাহর বল তাঁর ব্যাটের বাইরের কানা ঘেঁষে যায়। কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন লিটন। আল্ট্রা এজে গিয়ে বেঁচে যান লিটন। জীবন পেয়েও থিতু হতে পারেননি লিটন। পরের ওভারের পঞ্চম বলে সেই এলবি হয়েই ফিরে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বাঁহাতি পেসার বিলাল খানের ফুল লেংথ বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি লিটন। এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় ওমান। রিভিউতে স্পষ্ট দেখা যায় বল লাগতো লেগ-মিডল স্টাম্পে। ৬ রানে বিদায় নেন লিটন।

লিটনের পর ওয়ান ডাউনে নেমে ফিরে যান মেহেদী হাসানও। ২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪ বল খেলে রানের খাতাও খুলতে পারেননি মেহেদী। পঞ্চম ওভারে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে শট খেলতে চেয়েছিলেন মেহেদী। টাইমিং ঠিক হয়নি, ঝাঁপিয়ে মুঠোয় ক্যাচ জমান ফায়াজ।

দুই উইকেট হারানোর পর বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কমে যায় রানের গতিও। অস্বস্তিতে পড়ে যান ব্যাটসম্যানরা। বারবারই ভুল করে বসেন থিতু হয়ে যাওয়া নাঈম। প্রথম আট ওভারে তিনবার জীবন পান নাঈম।

সেই সুবিধা পরে অবশ্য কাজে লাগান নাঈম। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। দুজনে মিলে রানের গতিও বাড়ান। ৩৯ বলে এই জুটিতে আসে ৫০ রান। শেষ পর্যন্ত ৮০ রানে ভাঙে এই জুটি। দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হয়ে ফিরে যান সাকিব। ২৯ বলে ৪২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।

সাকিব ফিরলেও থিতু ছিলেন নাঈম। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৪৩ বলে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করেন নাঈম। এর মাঝে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যর্থ হন নুরুল হাসান সোহান। টিকতে পারেননি আফিফ হোসেনও। এরপর আউট হয়ে যান নাঈম। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা নাঈম ৫০ বলে ৬৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। বড় লক্ষ্যের আশায় থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৫৩ রানে থামে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩ (লিটন ৬, নাঈম ৬৪, মেহেদী ০, সাকিব ৪২, সোহান ৩, আফিফ ১, মাহমুদউল্লাহ ১৭, মুশফিক ৬, সাইফ ০, তাসকিন ১*, মুস্তাফিজ ২; বিলাল ৪-০-১৮-৩, কলিমউল্লাহ ৪-০-৩০-২, ফায়াজ ৪-০-৩০-৩, নাদিম ৪-০-৩৫-০, ইলিয়াস ২-০-১৬-০, মাকসুদ ২-০-১৭-১)।

ওমান : ২০ ওভারে ১২৭/৯ (আকিব ৬, জতিন্দর সিং ৪০, ক্যাশব ২১, মাকসুদ ১২, আয়ান ৯, স্বন্দীপ ৪, নাসিম , কলিমউল্লাহ ৫, নাদিম ১৪, ফায়াজ ০, বিলাল ০; সাকিব ৪-০-২৮-৩, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৬-৪, মেহেদী ৪-০-১৪-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-১৬-১, তাসকিন ৪-০-৩১-০)।

ফল: বাংলাদেশ ২৬ রানে জয়ী।

সাকিবের জোড়া আঘাতে জয়ের কাছে বাংলাদেশ

১৭ তম ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান। ১৭ তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে আয়ান খান ও নাসিম খুশিকে বিদায় করেন সাকিব। ১৭ ওভার শেষে ওমানের সংগ্রহ সাত উইকেটে ১০৭।

সাইফের আঘাতে নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ

১৪ তম ওভারে মাত্র চার রান দেন তাসকিন আহমেদ। দশের ওপরে চলে যাওয়া আস্কিং রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাইফউদ্দিনকে মারতে যেয়ে আউট হন সন্দীপ গৌড়। ওমানের স্কোর পাঁচ উইকেটে ১০১ রান।

সাকিবের শিকার যতীন্দর

১০ রানে জীবন পেয়েছিলেন যতীন্দর। মোস্তাফিজের বলে সহজ ক্যাচ ছেড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও দ্বিতীয় জীবনে আরও ৩০ রান যোগ করেছেন যতীন্দর। অবশেষে বোলিংয়ে ফিরে বাংলাদেশকে আরেকটা উইকেট এনে দিলেন সাকিব। টাইমিং ঠিকঠাক হলেও স্কয়ার লেগে লিটনের হাতে ধরা পড়েছেন যতীন্দর।

মুস্তাফিজের দারুণ ক্যাচে ফিরলেন জিশান

প্রায় ছয় ওভার পর উইকেটের দেখা পেল বাংলাদেশ। ১২তম ওভারে মাহেদী হাসানকে মারতে গিয়ে মুস্তাফিজের দারুণ ক্যাচের শিকার হয় ওমান অধিনায়ক জিশান মাকসুদ। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ১২ রান। ওমানের সংগ্রহ তিন উইকেটে ৮১।

জুটি ভাঙলেন মুস্তাফিজ

মুস্তাফিজকে ছক্কা মেরে পরের বলে কিপার নুরুল হাসান সোহানের হাতে ধরা পড়েন কাশ্যপ প্রজাপতি। ৮ রানে জীবন পাওয়া এই ব্যাটসম্যান থামেন ২১ রানে। তার ১৮ বলের ইনিংসে দুই ছক্কার পাশে একটি চার।

৬ ওভারে ওমানের স্কোর ২ উইকেটে ৪৭। ক্রিজে যতীন্দরের সঙ্গী জিশান মাকসুদ।

ক্যাচ ছাড়লেন মুস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহ

ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে ফিরে উইকেটের সুযোগ তৈরি করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি পেসারের বল আকাশে তুলে দিলেন জাতিন্দর সিং। অনেক সময় পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ, বলের নিচে গিয়ে দুই হাতে ধরেছিলেনও। কিন্তু মুঠোয় আটকে রাখতে পারলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তৃতীয় ওভারে হাতছাড়া হলো দুটি সুযোগ। রান আউট থেকে বেঁচে গেলেন জাতিন্দার সিং। পরে থার্ড ম্যাচে মুস্তাফিজুর রহমানকে কঠিন ক্যাচ দিয়ে টিকে গেলেন কাশ্যপ প্রজাপতি। ঝাঁপিয়ে দুই হাতে বল ধরলেও মুঠোয় রাখতে পারেননি মুস্তাফিজ।

৩ ওভারে ওমানের স্কোর ১ উইকেটে ২৬।

প্রথম বলেই ফিজের শিকার

তাসকিন আহমেদের খরুচে ওভারের পর স্বস্তি এনে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। এলবিডব্লিউ করে ফিরিয়ে দিলেন আকিয়াব ইলিয়াসকে।

লেগ স্টাম্পে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া বল ব্যাটে খেলতে পারেননি ডানহাতি এই ওপেনার। আম্পায়ার জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে আউট দিলে রিভিউ নেন ইলিয়াস। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল লাগতো অফ স্টাম্পে।

বিস্ময়করভাবে ওভারে পাঁচটি ওয়াইড করেন মুস্তাফিজ। লেগ স্টাম্পের বাইরে বল দিয়ে হজম করেন ছক্কা।

৬ বলে ৬ রান করেন ইলিয়াস।

২ ওভারে ওমানের স্কোর ১ উইকেটে ২৪। ক্রিজে জাতিন্দার সিংয়ের সঙ্গী কাশ্যপ প্রজাপতি

১৫৪ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

১৫৩ রানে অলআউট বাংলাদেশের। শেষ ওভারে মাহমুদউল্লাহকে বোল্ড করার পর মুস্তাফিজুর রহমানের উইকেট নিলেন বিলাল খান।

তবে মোহাম্মদ নাঈম শেখের ফিফটি ও তার সঙ্গে সাকিব আল হাসানের চমৎকার জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। শেষ দিকে কিছুটা অবদান রেখেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও।

গোল্ডেন ডাক সাইফের

পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজটা ঠিক মতো করতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। কিপারের যতটা দূর দিয়ে ফায়াজ বাটকে খেলতে চেয়েছিলেন ততটা হলো না। থার্ড ম্যান দিয়ে পাঠানোর চেষ্টায় ধরা পড়লেন কিপার নাসিম খুশির গ্লাভসে।

ক্রিজে গিয়েই ছক্কার আশায় বেরিয়ে এসে মেরেছিলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। টাইমিং করতে পারেননি, ধরা পড়েন লং অফে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার পান গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ।

১৯ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৮ উইকেটে ১৪৬।

হতাশ করলেন নুরুল-আফিফ

নামার পর থেকেই বড় শটের চেষ্টায় ছিলেন কিন্তু টাইমিং না মেলায় সীমানা পার করতে পারলেন না। কলিমউল্লাহর বলে ধরা পড়লেন জাতিন্দার সিংয়ের হাতে।

৫ বলে ১ রান করেন আফিফ।

দুই বল পর ক্লান্ত এক শটে ফিরেন মোহাম্মদ নাঈম শেখও। কলিমউল্লাহর অফ স্টাম্পের বেশ বইরের শর্ট বলে পুল করে সীমানায় ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ওপেনার। ৫০ বলে খেলা তার ৬৪ রানের ইনিংস গড়া তিন চার ও চার ছক্কায়।

ক্রিজে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী মুশফিকুর রহিম। দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার ভার অভিজ্ঞ এই দুই ব্যাটসম্যানের কাঁধে।

রান আউট হয়ে ফিরলেন সাকিব

শুরুতে একটু সময় নিলেও সাকিব আল হাসান দারুণ খেলছিলেন। শর্ট রানরে পাশাপাশ নিয়মিত বাউন্ডারিতে বাড়াচ্ছিলেন রানের গতি। এমন সময়ে রান আউট হয়ে গেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

ফায়াজ বাটের ফুল লেংথ অফে খেলেই রানের জন্য দৌড় দেন সাকিব। মাঝ পথে গিয়ে বুঝতে পারেন ফিল্ডারের থ্রো স্টাম্পে গেলে কোনো সুযোগ নেই তার। ছেড়ে দেন হাল। ওমানের বাজে ফিল্ডিংয়ের দিনেও আকিব ইলিয়াসের থ্রো এলোমেলো করে দেয় স্টাম্প। ভাঙে ৮০ রানের জুটি।

২৯ বলে ৬ চারে ৪২ রান করেন সাকিব।

১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ৩ উইকেটে ১০৩। ক্রিজে মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গী সোহান।

সাকিব-নাঈম জুটিতে অর্ধশত

মন্থর শুরুর পর রানের গতি বাড়াতে শুরু করছে বাংলাদেশ। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাকিব আল হাসান। মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে রান জুটিতে পঞ্চাশ এসেছে ৩৯ বলে।

দলীয় রান ২১ হতেই দুই উইকেটের পতন হয়েছে বাংলাদেশের। লিটনের পর ব্যাটিংয়ে আশা মেহেদী ফিরলেন শূন্যতেই।

১৩ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ১০১। ৪১ বলে ৪৮ রানে খেলছেন নাঈম। সাকিবের রান ২৮ বলে ৪২।

৬ রানেই ফিরলেন লিটন

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে স্ট্রাইক পেলেন লিটন দাস। কলিমউল্লাহর বল গেল তার ব্যাটের বাইরের কানা ঘেঁষে। কট বিহাইন্ডের আবদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিলেন লিটন। আল্ট্রা এজে মেলেনি বলে ব্যাট স্পর্শের প্রমাণ। পাল্টায় সিদ্ধান্ত। গোল্ডেন ডাকের হাত থেকে বেঁচে গেলেন লিটন।

পরের ওভারেই লেগে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। তবে ফিল্ডার ক্যাচটি তালু করতে না পারেননি। কিন্তু পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান লিটন।

নাঈম-লিটনের ব্যাটে বাংলাদেশের শুরু

কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর দেয়া ধারণা অনুযায়ীই কেবল একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের জায়গায় ফিরেছেন আরেক বাঁহাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও দলে নেই নাসুম আহমেদ। সবুজ ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে তিন পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে কোনো অঘটন এড়াতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। সৌম্য সরকারের জায়গায় ব্যাটিং ওপেনও করছেন নাঈম। কিছুটা বদল আনা হয়েছে ব্যাটিং অর্ডারেও। অন্যদিকে, ওমানও চাইছে জয় দিয়ে ইতিহাস লিখতে।

দিনের প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের জয়ের পর সমীকরণ আরো কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের। সুপার টুয়েলভের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ওমানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকুর রহিমদের।

এদিকে নাঈম ফিরেছেন একাদশে। তবুও প্রাণহীন, গোমরা আবহ টাইগার স্কোয়াডে। কারও মূখে নেই হাসি, নেই উচ্ছ্বাস। স্কটল্যান্ড লজ্জা, যত দ্রুত ভোলা যায়, ততই ভালো। শিক্ষা নিয়ে হারাতে হবে স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশ একাদশ: লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

পেসার বাড়াল ওমান
বাংলাদেশের বিপক্ষে পেস বোলিংয়ে শক্তি বাড়িয়েছে ওমান। লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার খাওয়ার আলির জায়গায় একাদশে এনেছে ফায়াজ বাটকে।
ওমান একাদশ: জিসান মাকসুদ, আকিব ইলিয়াস, জাতিন্দার সিং, মোহাম্মদ নাদিম, আয়ান খান, সন্দিপ গৌড়, কলিমউল্লাহ, বিলাল খান, নাসিম খুশি, ফায়াজ বাট, কাশ্যপ।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে টপ ও মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের ধরন যেমন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, তেমনি বিতর্কের অবাক জাগায় ব্যাটিং অর্ডারও। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সাবলিল ব্যাটিং করছেন যিনি, সেই আফিফ হোসেনকে নামানো হয় ছয় নম্বরে। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা নুরুল হাসান সোহান নামেন সাতে।

ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানদের এত পরে নামানো, বিশেষ ২০ ওভারের ক্রিকেটে, যেখানে ব্যাটসম্যানদের হাতে সময় থকে কম, বিশ্বের খুব কম দলেই দেখা যায়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ যদিও ম্যাচের পর বলে দেন, ছয় নম্বরই আফিফের উপযুক্ত জায়গা।

ব্যাটিংয়ে উন্নতি ছাড়া উপায় নেই। ওমানের বিপক্ষে অর্ডারে কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছিলেন কোচ। ডান-বাম হাতি কম্বিনেশন রাখার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। স্কটল্যান্ডে বিপক্ষে দ্রুত মোমেন্টাম পেয়েও, হারিয়ে ফেলেছেন বোলাররা। বোলিং পরিবর্তন নিয়েও কথা উঠতে শুরু করেছে। খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই টাইগারদের।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin