শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার দায়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়রকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এরআগে মেয়র শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে গ্রেপ্তারে রাত থেকে ৬ নম্বর সেক্টরের হোটেল ডি মেরিডিয়ান ঘিরে রাখে বাখে বাহিনীর সদস্যরা।
মেয়রকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব জানায়, দেশ থেকে পালানোর পরিকল্পনা ছিল না শাহনেওয়াজ শাহানশাহর। তবে ঢাকায় বসে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
গত ১৬ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন মেয়র শাহানশাহ। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মাইকে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ ও বিভিন্ন সংগঠনের নাম ঘোষণা করছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেহের উল্লাহ।
ওই অনুষ্ঠানে পৌরসভার নাম ঘোষণায় দেরি হওয়ায় মেয়র গালাগাল করেন এবং থাপ্পড় মারেন বলে সেদিন অভিযোগ করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। পরে তিনি পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
ওই খবর সংবাদমাধ্যমে এলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মেয়রের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে মেয়র শাহানশাহ সে সময় বলেছিলেন, শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ ‘রহস্যজনক কারণে’ পৌরসভার নাম ৫ নম্বরের বদলে ৮ নম্বর ক্রমে ঘোষণা করেন।
গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের ওইদিন রাতেই তার বিরুদ্ধে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষা কর্মকর্তা মেহের উল্লাহ। পরে গত ১৯ ডিসেম্বর এ ঘটনায় শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে দল থেকে বহিষ্কার করা নিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি দেয় আওয়ামী লীগ।
এছাড়া ২১ ডিসেম্বর মেয়র পদ থেকে শাহনেওয়াজ শাহানশাহকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।





