সিটি করপোরেশন
১২ সিটির দুটির মেয়র নারী
সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৭৬ কাউন্সিলরের মাত্র দুজন নারী
জেলা পরিষদ
৬১ জন চেয়ারম্যানের নারী মাত্র একজন
ইউনিয়ন পরিষদ
৪৫৭১ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে নারী ৪৫ জন
সিটি নিউজ ডেস্ক :: কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী। একটি রাজনৈতিক পরিবারের তৃণমূলে রাজনীতি করে উঠে আসা এ নেত্রী ভোটের মাঠে হার মেনেছেন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কাছে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ভোট করেও নানান বাধার মুখে হারতে হয়েছে তাকে।

তানিয়া সুলতানা হ্যাপী বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাচন করেছিলাম। সেখানে আমাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। সেটা মোটামুটি সবাই জানে। আদালতে যখন চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলাম সেখানে আমার পক্ষে আদালত রায় দেওয়ার পরও আমাকে প্রশাসনের মাধ্যমে হারানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, একজন নারী হিসেবে আমাকে কী রকম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে।’

‘যেহেতু আমি পলিটিক্যাল ফ্যামিলির মেয়ে, আমার বাবা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে কারণে আমি উৎসাহী হয়ে রাজনীতি করি। আমার মতো মানুষের যখন এ ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। পুরুষতান্ত্রিক হীনমন্যতা একটি বিষয়, আরেকটি হলো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। আমি দুটি ক্ষেত্রেই চরম চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রশাসন একটা যন্ত্র, সেটাকে দলের মানুষই কাজে লাগিয়েছে।
দলের একটা অংশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাকে হারিয়েছে।’তার মতে, তৃণমূলে যারা রাজনীতি করেন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। কারণ, তাকে পারিবারিক বাধা অতিক্রম করতে হয়নি। এটি তার জন্য সহায়ক হয়েছে। কিন্তু এ সুযোগটি সবাই পায় না। ফলে অনেক ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয় তৃণমূলে রাজনীতি করা নারীদের।সংসদ সচিবালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ এমপির মধ্যে নারী ২০ জন। একাদশ জাতীয় সংসদে এ সংখ্যা ছিল ২৬ জন। ফলে গতবারের তুলনায় এবার সংখ্যায় কমেছে নারী এমপির সংখ্যা। তবে সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন যুক্ত করলে এবার সংসদে নারী নেতৃত্ব দাঁড়াবে ৭০ জনে। এর আগে সপ্তম সংসদে আটজন, অষ্টম সংসদে সাতজন, নবম সংসদে ২১ জন এবং দশম সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে নারী এমপি ছিলেন ২৩ জন।
স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে মেয়র পদে নারী রয়েছেন দুজন। এসব সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড সদস্যের ৪৭৬টি পদের বিপরীতে নারী রয়েছে মাত্র দুজন। তবে সংরক্ষিত সাধারণ ওয়ার্ডে ১৬০ জন নারী রয়েছে। জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৬১ জনের মধ্যে নারী মাত্র একজন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তৃণমূলের রাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে। দলীয় পদ পদবির রাজনীতির বাইরে এ দুই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান যাচাই করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন অনেক তৃণমূল নেত্রী।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৪৯২ জনের
মধ্যে নারী রয়েছেন ১৫ জন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৪৯২ জন, যেটি নারীদের জন্যই সংরক্ষিত। ফলে চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০৭ জন। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান পদে ৪ হাজার ৫৭১ জনের মধ্যে নারী ৪৫ জন। সংরক্ষিত সদস্য ১৩ হাজার ৭৩৭ জন। সার্বিকভাবে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদগুলো ছাড়া অন্য পদগুলোতে নারীদের নেতৃত্বের হার অনেকটাই কম।সুত্র , জাগো নিউজ





