৩৯ বছরেও উন্নয়ন হয়নি, নথুল্লাবাদ টিনের মসজিদ‘র

বরিশাল নথুল্লাবাদ বিআরটিসি বাস ডিপো এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ (টিনের মসজিদ) উন্নয়নকাজ ব্যাহত

সিটি নিউজ ডেস্ক :: বরিশাল নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ (টিনের মসজিদ) উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে। মালিকানা নিয়ে বিআরটিসি বাস ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মসজিদ কমিটির বিরোধের জেরে এ অবস্থা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ৩৯ বছর আগের টিনের ছাপরা ঘর জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন।

সামান্য বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।
বিআরটিসির ডিপো ব্যবস্থাপক মো. জামশেদের দাবি, জমির মালিক বিআরটিসি। তাই তাদের তত্ত্বাবধানেই উন্নয়ন হবে। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয়রা কমিটিতে বিআরটিসির কাউকে রাখেননি। এ সমস্যার সমাধান হলেই উন্নয়নের পথ উন্মুক্ত হবে। তবে মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ খান বলেন, সড়ক ও জনপথের জমিতে মসজিদ হয়েছে।

পরে জরিপে মসজিদের নামে ১০ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়। বিআরটিসির মালিকানা দাবির ভিত্তি নেই।

বাস টার্মিনাল প্রতিষ্ঠার পর এলাকায় মসজিদ ছিল না। ১৯৮৫ সালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থাপনের সময় ব্যবসায়ী, যাত্রী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নামাজের সুবিধার্থে স্থানীয়দের উদ্যোগে মহাসড়কের পাশে টিনের ছাপরার মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান সফরে এলে তাঁর অনুমতিতে মসজিদে জুমা চালু করা হয়। পরে মসজিদ ঘেঁষে বিআরটিসি বাস ডিপো এবং পেট্রোল পাম্প স্থাপিত হয়। এরপর থেকে এলাকার নানামুখী উন্নয়নে চারপাশ উঁচু হওয়ায় নিচু হয়ে গেছে মসজিদটি। ফলে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়। জমির মালিকানা নিয়ে মসজিদ কমিটি ও বিআরটিসি ডিপো কর্তৃপক্ষের বিরোধে উন্নয়ন করতে গেলেই নানামুখী বাধা আসছে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা মুজিবুর রহমান বলেন, আশপাশ উঁচু হওয়ায় মসজিদটি প্রায় এক ফুট নিচু হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টি হলেই নামাজ বন্ধ রাখতে হয়। চলতি মাসেও কয়েকবার ওয়াক্তের নামাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বৃষ্টির পানি প্রবেশ ঠেকাতে সম্প্রতি ভিটি উঁচু করার কাজ শুরু করলে বিআরটিসির বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়। 


মসজিদ প্রতিষ্ঠা কমিটির আহ্বায়ক শেখ শামসুল আলম মিলন জানান, বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছিল মসজিদ উন্নয়ন ও ইমামের বেতন বহন করবে। তারা কথা না রেখে টালবাহানা শুরু করে। কয়েক বছর আগে ডিপোর মধ্যে আরেকটি মসজিদ স্থাপন করেছে বিআরটিসি।

অফিস সময়ের বাইরে ডিপোর গেট বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের সেই মসজিদে যাতায়াতের সুযোগ কম। যে কারণে টার্মিনালের ব্যবসায়ী, পথচারী ও যাত্রীরা এখনও জরাজীর্ণ মসজিদেই নামাজ আদায় করেন।
বাস টার্মিনাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর্জা গোলাম রাব্বানী লাবু বলেন, ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে মসজিদের উন্নয়ন করতে চাইলেও বিআরটিসির বাধায় পারছেন না। কয়েক যুগ ধরে এভাবেই চলছে। সুত্র , সমকাল।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin