বরিশালে ঈদুল আযহার প্রধান জামাতে মুসুল্লিদের ঢল

স্টাফ রিপোর্টার :: বরিশালে ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। র্কীর্ত্তন খোলা নদী তীর বর্তী, নগরীর বান্দ রোডস্থ হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। প্রতিবছর নয়্য এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন হাজারও মুসল্লি। তবে বিগত সকল সময়কে ছাপিয়ে এবছর উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি।বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রস্তুতি প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি কপোরেশন কতৃপক্ষ বলছেন, এই বছর ঈদগাহে গতবছর গুলোর তুলনায় এবারের উপস্থিতি সব রেকর্ড ভেঙেছে। আজ সোমবার (১৭) জুন সকাল ৮টার সময় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঈদুল আযহার প্রধান জামাতে ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক , বিসিসি মেয়র আবুল খায়ের,। এখানে আরো নামাজ আদায় করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. শহিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১নং প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব,মেয়র পুত্র আবিদ সেরনিয়াবাত , বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আলাউদ্দিন আলোসহ বিসিসি বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ ও বিভিন্ন সরকার দলীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মুসল্লিগণ।

পাশাপাশি আবহাওয়ার সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশে সুন্দর থাকায় দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এসেছেন। ঈদ-উল আজহার জামাত আদায় করতে পেরে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন মুসল্লিরা।

ঈদের নামাজ আদায় শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়। সেই সঙ্গে দেশের শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশেষ করে সারা বিশ্বের মুসলিম জাহানসহ ফিলিস্তিনদের রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানানো হয়।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী বলেন, এবারের ঈদ খুবই সুন্দরভাবে মানুষ পালন করছে। মানুষ স্বস্তিতে নাড়ির টানে বাড়িতে ফিরেছে।

এ সময় ঈদের এ ছুটিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ সবাইকেই শান্তিতে বসবাস করার আহ্বান জানান তিনি।

বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শুভেচ্ছা বিনিময় বক্তব্যে বলেন, দেশ বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সমৃদ্ধশালী হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই।

এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সবকিছু ভুলে গিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আসুন আমরা সবাই এক হয়ে সততার সঙ্গে বরিশালকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করার কাজ করি। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

সিটি মেয়র আবুল খায়ের খোকন সেরনিয়াবাত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সিটি কর্পোরেশনের জনগণের প্রতি আমার ভালবাসা অব্যাহত আছে। এই সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমার আন্তরিকতা আছে। আমরা এরই মধ্যে বরিশালের উন্নয়নের কাজে হাত দিয়েছি। পাশাপাশি নগরবাসীর দায়িত্ব আছে শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখার। সবার কাছে ভালোবাসা চাই।

এবারই প্রথম বিসিসি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের বাহিরে মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। এছাড়া পুরো ঈদগাহ প্যান্ডেল সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।

এছাড়া আমানতগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরিফে সকাল ৮টায়, উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও নেছারাবাদ দরবার শরিফে সকাল ৮টায় ঈদের বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে পরস্পরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসল্লিরা।

অন্যদিকে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ লাইন জামে মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও নগরীর জামে কসাই মসজিদে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় । জামে এবায়েদুল্লাহ ও সদররোডস্থ জামে বায়তুল মোকাররম মসজিদে দুইটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান ঈদজামাত ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া নগরের মুসলিম গোরস্তান আঞ্জুমান জামে মসজিদ, পলাশপুর কাজির গোরস্তান জামে মসজিদ এবং জেলার প্রায় শতাধিক মসজিদে ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin