বরিশালে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পায়নি আট হাজার পরিবার

সিটি নিউজ ডেস্ক :: এই ঈদের আগে বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে টিসিবির প্রায় ৩২ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। তবে এর মধ্যে প্রায় আট হাজার পরিবার পায়নি টিসিবির পণ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিতরণকালে যেসব কার্ড অ্যাক্টিভ (সচল) করে দেয়া হয়নি সেগুলো বাতিল করে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ কারণে ঈদের আগে টিসিবির পণ্য পায়নি পরিবারগুলো।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সময়ে বরাদ্দ দেয়া টিসিবির ৯০ হাজার কার্ডের মধ্যে জানুয়ারিতে ৬০ হাজার কার্ড বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে তখন বিভিন্ন ওয়ার্ডে কার্ডধারীরা বিক্ষোভও করেন। মার্চে যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় ৩১ হাজার ৭০০ স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পেলেও প্রায় আট হাজার কার্ড বাতিল হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, ‘কার্ড বাতিলের বিষয়টি আমার জানা নেই। কেন এগুলো বাতিল হলো তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দীপা রানী দাস নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে গত মার্চে স্মার্ট ফ্যামিল কার্ড দেয়া হয়। তিনি কার্ড ব্যবহার করে একবার টিসিবি পণ্য নিয়েছেন। তবে ঈদের আগে পণ্য আনতে গিয়ে জানতে পারেন তার কার্ড বাতিল হয়ে গেছে।

দীপা রানী দাস বলেন, ‘ওয়ার্ড সচিবের কাছে গিয়ে দেখেন বাতিল হওয়ার তালিকায় দীর্ঘ লাইন। সরবরাহের সময় যাদের কার্ড ওয়ার্ড সচিব অ্যাক্টিভ করে দেননি, তাদের কার্ডই বাতিল হয়ে গেছে। যখন কার্ড দিল তখন কেন অ্যাক্টিভ করে দিল না। এটি অ্যাক্টিভ করার ক্ষমতা রাখে কেবল ওয়ার্ড সচিব। তাছাড়া টিসিবি কর্তৃপক্ষ কি কোথাও ঘোষণা দিয়েছে যে গ্রাহকের কার্ডটি অ্যাক্টিভ করতে হবে? কেবল ওয়ার্ড সচিবের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই এত ঘটা করে দেয়া স্মার্টকার্ড অনেকেরই বাতিল হলো।’

একই অভিযোগ করেন মিরাজ হোসেন, জাফর জমাদ্দার ও দুলাল হোসেন। তারা বলেন, টিসিবি কিংবা সিটি করপোরেশন কেন এ বিষয়টি ঘোষণা দিয়ে গ্রাহককে জানাল না। এর দায় এখন কে নেবে?

তবে সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড সচিব জাকির হোসেন দাবি করেন, তিনি টিসিবির নতুন স্মার্টকার্ড পেয়েছেন ৬৮৭টি। এর মধ্যে ২০-২৫টি অ্যাক্টিভ না করায় বাতিল হয়ে গেছে।

যদিও স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে জানান, ওয়ার্ডের প্রায় ১০০টি স্মার্টকার্ড বাতিল হয়েছে সচিবের অবহেলায়।

৫ নম্বর ওয়ার্ড সচিব মো. জসিম উদ্দিন জানান, তার ওয়ার্ডে তিন হাজার ১৮০টি স্মার্টকার্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাক্টিভ করা হয়নি—এমন ২৫০-৩০০ গ্রাহকের কার্ড বাতিল হয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ড সচিব বাদল চন্দ্র জানান, তার এক হাজার ৭০০টি কার্ডের মধ্যে ২১০টি বাতিল হয়েছে। এর কারণ অনেকে কার্ড নেয়নি, আবার অনেকে কার্ড নিলেও অ্যাক্টিভ করা হয়নি।

৮ নম্বর ওয়ার্ড সচিব সুমন দেবনাথ বলেন, ‘সময়মতো স্মার্টকার্ড অ্যাক্টিভ না করায় আমার ওয়ার্ডে ৭০-৮০টি বাতিল হয়েছে। ওয়ার্ড সচিবরাই স্মার্টকার্ড অ্যাক্টিভ করেন।’

জানতে চাইলে টিসিবি বরিশালের সহকারী পরিচালক শতদল মণ্ডল বলেন, ‘সঠিক সময় স্মার্টকার্ড অ্যাক্টিভ করবে সিটি করপোরেশন। কিন্তু তা করা হয়নি। আবার অনেকের কার্ড হয়েছে তবে নিতে আসেনি। এমন সাত-আট হাজারের মতো নতুন স্মার্টকার্ড বাতিল হয়েছে। নগরীতে ম্যানুয়ালি করা ৬০ হাজার কার্ড বাতিল হওয়ার পর প্রায় ৩১ হাজারের মতো স্মার্টকার্ড দেয়া হয়েছে।

সূত্র, বনিক বার্তা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin