জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বৈষম্যবিরোধী নেতা মারযুকের আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার >> প্রধান উপদেষ্টার কাছে জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিকল্পিত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচারের দাবি জানিয়েছেন বরিশালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মারযুক আবদুল্লাহ।

চলতি বছরের পহেলা জুলাই “বাংলাদেশ ডাকযোগে” লিখিত আবেদন প্রেরণ করেন “জুলাই যোদ্ধা” মারযুক। লিখিত আবেদনের অনুলিপি প্রেরণ করা হয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে। আবেদনকারীর দাবি- ৬ জুন ২০২৫ তারিখে পটুয়াখালী দুমকি থানায় রুজু হওয়া মিথ্যা ডাকাতি মামলাটি (নং ৪/৭৭-২০২৫) অবিলম্বে প্রত্যাহার, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি সহ তার জীবনের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় তার দায়েরকৃত মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা।

লিখিত অভিযোগে মারযুক উল্লেখ করেন, পেনাল কোডের ৩৯৯/৪০২ ধারা ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে ‘ডাকাতির প্রস্তুতি’ সময়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।

মামলার তথ্য, উদ্ধৃতি এবং পুলিশি বিবরণীর কোনো ভিত্তি নেই। আমি ওই সময় পটুয়াখালীর টোল চেকপোস্ট সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী নির্বিঘ্নে অতিক্রম করছিলাম।

কিন্তু ঘটনাস্থলে ছিলাম না। চলতি বছরের ২৭ মে বরিশাল রুপাতলী দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকার আ.লীগ সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এমনকি একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

যার স্ক্রিনশট সংরক্ষিত করে আমি আদালতে পেশ করেছি। ১০ জুন আমার পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। অথচ ওই দিনই আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। চরম মানসিক যন্ত্রণা ও নিরাপত্তাহীনতার ভুগছিলাম আমি। আবেদনে আইনগত দিক তুলে উল্লেখ করা হয়- সংবিধানের ৩২, ২৭ ও ৩১ ধারা, দণ্ডবিধি ৫০৬ ও ১২০বি, সিআরপিসি এর ৫৪, ৮৭, ৮৮, ১০৭, ১৬৭(২), ৯০, ৯৩, ৪১, ৪৬ ও ১৫১ ধারা অনুযায়ী সরকার এই মামলাটি তদন্ত করে অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারে। মারযুক বলেন, পুলিশ এজাহারে লিখেছে- আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

বিষয়টি তার বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং হয়রানিমূলক অপচেষ্টা। কারণ, আমি আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় ১৪ মে ২০২৫ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেছি। দায়েরকৃত মামলার আসামিদের না ধরে বাদী (আমাকে) ফাঁসানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই মামলাটি সাজানো হয়েছে। মারযুকের দেয়া দুইটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়- তাকে হত্যার পরিকল্পনা চলছিল এবং পটুয়াখালীতে মামলায় ফাঁসানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।

তবে গ্রুপ ম্যাসেঞ্জারে যারা যারা এ সব কথা লিখেছে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেড়িয়ে আসবে ঘটনার মূল রহস্য। প্রধান উপদেষ্টার বরাবর লিখিত অভিযোগে আবেদনকারী মারযুক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যার অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বরাবর সহ আইন উপদেষ্টা, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা, লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন,আইজিপি, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি, বরিশাল জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, বরিশাল পুলিশ কমিশনার ও বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাবর।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin