চন্দ্রমোহনে যুবলীগ-যুবদল মিলে জমি দখলচেষ্টা: আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যকরে বালু ভারট, প্রবাসীর জমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক >> জুলাই ২৪ এর সৈরাচার সরকার পতন হওয়ার পরপর গোটা দেশের প্রেক্ষাপট পালটালে গেলেও সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের চিত্র একটু ভিন্ন ওই এলাকায় এখনও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষরদের পদচারনা বেশ সবর। কোন ঠাসা বিএনপি সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা কর্মিসহ সাধারন সর্মথকরা।
অভিযোগ পাওয়া গেছে এদেরকে আবার পুর্নবাসন করছেন স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক পরিচয় দান কারী আব্দুর রউফ সেন্টু। সুত্র জানায় সেন্টুর প্রত্যাক্ষ ও পরক্ষ মদদে এখনো বুক ফুলিয়ে এলাকায় জমি দখল সহ নানা অপকর্ম করছে ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি অরুন ঢালী।

বরিশাল সদর উপজেলার ১০নং চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাজারসংলগ্ন বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ ও যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৈধ মালিক প্রবাসী ইলিয়াস কবির জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসন, আদালত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রবাসী ইলিয়াস কবির দেশে ফিরে ২০২১ সালে বরিশাল সদর উপজেলার ১৪০ নং ভেদুরিয়া মৌজার এস.এ. খতিয়ান নং ৫০ এবং বি.এস. খতিয়ান নং ৬২৭ এর অধীনে থাকা ২৫.৫০ শতাংশ জমি সাফ কবালা দলিল নং ১০৬৫৯-এর মাধ্যমে ক্রয় করেন। জমিটি তার নামে রেকর্ডভুক্ত হয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নতুন খতিয়ান নং ৯৮৭ অনুমোদন করেন। নিয়মিতভাবে জমির খাজনাও পরিশোধ করা হয়ে আসছে।
জমি কেনার পর ইলিয়াস কবির কাটা তারের বেড়া দিয়ে জমি দখল সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৬-৭ মাস পর চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি অরুন এবং যুবদল আহবায়ক সেন্টুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বেড়া ও অন্যান্য স্থাপনা ভাঙচুর করে। এরপর তারা মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ইলিয়াস কবিরকে হয়রানি করতে থাকে এবং দাবি করে জমিটি তাদের মালিকানাধীন। কোনো প্রশাসনিক সহায়তা না পেয়ে ইলিয়াস কবির আদালতে বন্টন মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।

জমি দখলের হুমকি ক্রমেই বাড়তে থাকায় তিনি এমপি মামলা নং ১৪০৫/২০২৫ (বন্দর) দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারা অনুযায়ী বিরোধীয় জমিতে শান্তি বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালতের নির্দেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই জমিতে দখল বা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আদালতের আদেশ অমান্য করে সম্প্রতি অরুন ও সেন্টুর নেতৃত্বে একদল লোক রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিরোধীয় জমিতে বালু ভরাট শুরু করেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইলিয়াস কবির জানান, তিনি আইন মেনে জমি ক্রয় করেছেন এবং সব বৈধ প্রক্রিয়ায় রেকর্ড হালনাগাদ হয়েছে। জমিটি রক্ষার জন্য তিনি প্রশাসনসহ সব দপ্তরে সহযোগিতা চাইলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো মিথ্যা মামলার মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি নতুন ভূমি আইন ২০২৩ অনুযায়ী মামলা করলেও প্রতিপক্ষ আদালতের আদেশকে অমান্য করছে।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা অরুন ঢালী ও যুবদল আহবায়ক আব্দুর রউফ সেন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইলিয়াস কবির মোট ৬ একর জমির মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। তারা আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করছেন এবং জমির বৈধ মালিকানার কাগজ পত্র তাদের হাতে রয়েছে। এছাড়া আদালতের আদেশেই তারা বিরোধীয় জমিতে বালু ভরাট করেছেন। তাদের দাবী ওই জমির পাওয়ার অব এটনি তাদের নামে মুল মালিক দিয়েছে । সেই সুত্রে মালিকানা তাদের।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, আদালতে মামলা চলমান, তার পরও যুবলীগ ও যুবদল মিলে আদালতের আদেশ অমান্য করে দখল কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রবাসী ইলিয়াস কবির বলেন, যুবলীগ-যুবদল নামধারী ভূমিদস্যুরা তার বৈধ জমি দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি প্রশাসন, আদালত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এ চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয় এবং তার জমি রক্ষা করা হয়।
এবিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ বিরোধ থেকে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকে।





