বরিশাল জুড়ে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক >> হিন্দু ধর্মালভ্বী দেরসব চাইতে বড় উৱসবকে ঘিরে বরিশাল জেলার ৬৪০ পুজা মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জা, রং-তুলির কাজ চলছে পুরোদমে।

গোটা বরিশাল জুড়ে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মহানগরীসহ জেলার ৬৪০টি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। আলোকসজ্জা-প্রতিমার সাজসজ্জা, রং-তুলির কাজ চলছে শেষ তুলির আচড়

বরিশালের নতুন বাজার শ্রী শ্রী শংকর মঠ মণ্ডপে প্রতিবছরের মতো এবারও থাকছে বিশেষ আয়োজন। এখানে প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জায় থাকছে নতুনত্ব। মণ্ডপ চত্বরের পুকুরও দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হচ্ছে।

শুধু শংকর মঠ নয়, জেলার প্রতিটি মণ্ডপেই চলছে ব্যস্ত সময়। রবিবার মহালয়ার দিনে বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সোমবারের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। পূজাকে কেন্দ্র করে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ৭টি বিশেষ টিম সোমবার থেকে শহরের প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে টহল শুরু করবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, র‌্যাব, আনসার এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি মণ্ডপে নারী ও পুরুষ আনসার সদস্য থাকবে।

তিনি আরও বলেন, পূজা এবং বিসর্জন উপলক্ষে মদ্যপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্বচ্ছ ও নিরাপদ পূজার জন্য প্রতিটি মণ্ডপ কমিটিকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, এবার পূজার আয়োজন আগের বছরের চেয়েও বড় এবং সুন্দর হচ্ছে। মহানগরীতে ৪৭টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে- এর মধ্যে ৪০টি সার্বজনীন এবং ৭টি পারিবারিক।

জেলার বিভিন্ন থানাভিত্তিক পূজা মণ্ডপের সংখ্যা –
* সদর উপজেলা: ২২টি
* আগৈলঝাড়া: ১৬১টি
* উজিরপুর: ১২০টি
* গৌরনদী: ৮৪টি
* বাকেরগঞ্জ: ৭৪টি
* বানারীপাড়া: ৫৯টি
* মেহেন্দিগঞ্জ: ২৪টি
* বাবুগঞ্জ: ২৪টি
* মুলাদী: ১২টি
* হিজলা: ১৫টি

শংকর মঠ পূজা কমিটির সভাপতি লিমন সাহা কানু বলেন, “বরিশাল অসাম্প্রদায়িক শহর। কোনো হুমকি ছাড়াই আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা করতে পারছি। অষ্টমীর দিনে দেশের শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও অঞ্জলি হবে এবং ২৫-৩০ হাজার ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।”

মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভানু লাল দে জানান, পূজার সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে পাঁচটি পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হয়েছে, প্রতিটিতে থাকছে ১০-১৩ জন সদস্য।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু বলেন, “গ্রামাঞ্চলের পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি, আশাকরি উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।”

এক নজরে এবারের দুর্গাপূজার সময়সূচি – ২৭ সেপ্টেম্বর: বোধন,২৮ সেপ্টেম্বর: ষষ্ঠী, ২৯ সেপ্টেম্বর: সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর: মহাষ্টমী, ১ অক্টোবর: নবমী, ২ অক্টোবর: বিজয়া দশমী ও বিসর্জন মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হবে।

সবমিলিয়ে বরিশালে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে আশা করছেন মহনগর পূজা কমিটির সভাপতি ভানু লাল দে ও সাধারন সম্পাদক গোপাল সাহা তারা জানান জেলা প্রশাসন-পুলিশ প্রশাসন সহ রাজনৈতিক তেনৃবৃন্দ সহ আমাদের সম্মিলিত চেষ্টায় বরিশালে দুর্গাপূজা হবে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin