নিজস্ব প্রতিবেদক >>: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) চতুর্থ শ্রেণির স্টাফ কোয়াটার জামে মসজিদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পুকুর ও খালি জায়গা দখল করে গড়ে দোকান ঘর, গোডাউন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়া তোলা হলেও সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা কেউ বলতে চান না।
এ ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন আব্দুল মান্নানকে মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায় সরকারি পুকুরের উপর দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ব্যবসা চালাচ্ছেন মোঃ সুমন। তিনি জানান, গত জুলাই থেকে তিনি স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা দিচ্ছেন। এর আগ পর্যন্ত এই টাকা তিনিই ভোগ করতেন। শুধু হোটেল নয়, তার আরও বেশ কয়েকটি দোকানঘর রয়েছে, যেগুলো ভাড়া দিয়ে তিনি বহু বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। চতুর্থ শ্রেণি কোয়াটারে ফলের দোকান, পানের দোকান, চায়ের দোকানসহ অসংখ্য স্টল থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকা উঠানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব টাকা কোথায় যায় এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা মুখ খোলেননি। মসজিদের দেয়াল ঘেঁষে সরকারি পুকুর ভরাট করে ১২টি পাকা দোকান নির্মাণের কাজ চলছিল। যেখানে গাইডওয়াল পুকুরের পাড় বরাবর হওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ১৫ ফুট পুকুরের ভিতরে পাইলিং করে দুই তলা ভবনের কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে। নিচে দোকান, গোডাউন এবং উপরে হেফজখানা বানানোর পরিকল্পনার কথা জানান মুয়াজ্জিন আব্দুল মান্নান।
মুয়াজ্জিন মান্নান দাবি করেন, হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি নিয়েই স্থাপনাগুলো হচ্ছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা যায় পরিচালকের দেওয়া অনুমতিপত্রে শুধুমাত্র মসজিদের দ্বিতীয় তলার কাজ সম্পন্ন করার অনুমতি ছিল। স্টল, গোডাউন বা পুকুর ভরাটের বিষয়ে কোনো অনুমতি নেই। মসজিদ কমিটির সদস্য মো. লিমন জানান স্টলপ্রতি ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে কাজ চলছে, বাকি টাকা বরাদ্দের সময় নেওয়া হবে। এসব কাজের জন্য সিটি করপোরেশন বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো দিক থেকেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা বলেন, মসজিদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি জমি বাণিজ্যিকভাবে দখল করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুয়াজ্জিন আব্দুল মান্নান সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। বজলুর প্রভাবেই তিনি মসজিদে চাকরি পান, যদিও তার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। স্থানীয়রা দাবি করেন, বজলুর ছায়াতেই মুয়াজ্জিন মান্নান ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে পুকুর দখল, দোকান বরাদ্দ ও ভাড়া তোলার কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। মসজিদের সামনে হাফিজি মাদ্রাসা থাকা সত্ত্বেও সরকারি পুকুর ভরাট করে নতুন মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের চেষ্টা হয়। স্থানীয়রা অভিযোগে আরও জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনার সরাসরি ইন্ধনদাতা মুয়াজ্জিন মান্নান। এর মাধ্যমে সরকারি জমি ও পুকুর আরও দখল করার পথ তৈরি হচ্ছিল। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছিলেন সরকারি জমিতে পাকা স্থাপনা করা যায় কিনা জানি না।
অনুমতি ছাড়াই কেউ কিছু করলে সেটা অশুভ ইচ্ছা। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।পরবর্তীতে পরিস্থিতি দেখে তিনি ইতোমধ্যে সব নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি পুকুর ভরাট করে দোকান নির্মাণ দেশের ইতিহাসে বিরল। পরিবেশ ধ্বংস করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিচালক ব্যবস্থা না নিলে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব। এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখল, জালিয়াতি, অনলাইন অপপ্রচার ও মামলায় হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। বরিশাল প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সাবরিনা ইসলাম রূপা লিখিত বক্তব্যে বজলুর বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন। মুলত আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর প্রভাবেই মুয়াজ্জিন আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্যরা নানা অনিয়ম বাস্তবায়নে অপকৌশলের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।





