ঝালকাঠির দুই আসনে চার এমপি, তিন জনই নারী
সিটি ডেস্ক //দক্ষিণাঞ্চলের ছোট জেলা, আসন মাত্র দুই টি। কিন্তু সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন চারজন। দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠিতে এমন সমীকরণ সচরাচর দেখা যায় না। এবার সেই ব্যতিক্রমই যেন নতুন রাজনৈতিক গল্প লিখছে। চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত
এক জেলার নানা প্রান্তের কথা এবার সংসদে তুলবেন চার সাংসদ।
ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল, যার রাজনৈতিক ভিত্তি রাজাপুর উপজেলায়। অন্যদিকে ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপি দলীয় সাংসদ ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, তাঁর ঘর নলছিটিতে।
এই দুই সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধির পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে ঝালকাঠির প্রতিনিধিত্ব করছেন আরও দুজন। তাদের একজন বিএনপি মনোনীত ঝালকাঠীর জীবা আমীন আল গাজী। অপরজন এনসিপির ডা. মাহমুদা মিতু, যিনি কাঠালিয়া উপজেলার মানুষ।
ফলে সংসদে ঝালকাঠির প্রতিনিধিত্ব যেন ছড়িয়ে পড়েছে জেলার রাজাপুর, নলছিটি, ঝালকাঠি সদর ও কাঠালিয়া উপজেলা।
এক জেলার চার মুখ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি যেমন বিরল, তেমনি সম্ভাবনাময়ও। কারণ, একই জেলার ভিন্ন ভিন্ন এলাকার সমস্যাগুলো আলাদাভাবে সংসদে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নারী নেত্রী প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শাহ শাজেদা বলেন, আগে একটা আসনের সমস্যা অনেক সময় অন্য এলাকায় গুরুত্ব পেত না। এখন চারজন সাংসদ থাকায় প্রত্যেকে নিজের এলাকার বিষয়গুলো আলাদা করে তুলে ধরতে পারবেন।
উন্নয়নের প্রত্যাশা
জেলার মানুষের প্রত্যাশা, এই ‘অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব’ বাস্তব উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে। যোগাযোগব্যবস্থা, নদীভাঙন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এসব খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো এবার বেশি জোরালোভাবে সামনে আসবে বলে মনে করছেন অনেকে।
ঝালকাঠীর সংগঠক এসএম রেজাউল করীম বলেন, একই জেলার চারজন সাংসদ থাকাটা আমাদের জন্য সুযোগ। সবাই যদি সমন্বয় করে কাজ করেন, তাহলে জেলার উন্নয়ন দ্রুত হবে।
রাজনৈতিক ভারসাম্য
এই চার প্রতিনিধির মধ্যে দলীয় বৈচিত্র্যও রয়েছে। সরাসরি নির্বাচিত দুই সাংসদের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে ভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকায় সংসদে ঝালকাঠির কণ্ঠও হয়েছে বহুমাত্রিক।
তবে কবি হেনরী স্বপন মনে করছেন, সমন্বয়ের অভাব হলে এই ‘সংখ্যা’ উল্টো প্রতিযোগিতায় রূপ নিতে পারে। তখন উন্নয়নের গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।





